এ সম্পর্কিত আরও খবর
লাইসেন্সহীন মাংস বাজারে অনিয়মের ছড়াছড়ি, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ হুমকিতে
- নিউজ এক্সপ্রেস প্রতিবেদক
- প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম
-
ছবি: সংগৃহীত
পটুয়াখালী প্রতিনিধি: জেলার বিভিন্ন শহরে লাইসেন্সবিহীন মাংস বিতানের বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১১ আইন ও বিধিমালা উপেক্ষা করে গড়ে ওঠা এসব দোকান জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং ধর্মীয় অনুশাসনের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, শহরে মাত্র ১৬ জন ব্যবসায়ীর বৈধ ট্রেড লাইসেন্স থাকলেও পশু জবাই ও মাংস বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ লাইসেন্স এবং স্বাস্থ্যগত সনদ কারও নেই।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের বিভিন্ন এলাকায় অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গড়ে উঠেছে এসব মাংস বিতান। খোলা জায়গায় পশু জবাই, অপরিষ্কার পানি ব্যবহার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব এবং মাছি-পোকামাকড়ে ভরা পরিবেশে মাংস বিক্রি করা হচ্ছে। এতে করে খাদ্যবাহিত রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।
পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১১ এর ধারা ৯(১) অনুযায়ী লাইসেন্স ছাড়া পশু জবাই বা মাংস বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একইসঙ্গে ২০২১ সালের বিধিমালায় নির্ধারিত স্বাস্থ্য সনদ, নির্দিষ্ট জবাইস্থান, স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এসব বিধান উপেক্ষিত হচ্ছে পটুয়াখালীর অধিকাংশ মাংস বাজারে।
এদিকে ইসলাম ধর্মীয় রীতিনীতিতে মাংসের পশু জবাই করার সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। সে আলোকে পটুয়াখালী পৌরসভা থেকে নিউমার্কেট এলাকায় একজন মৌলভী ঠিক করা আছে। সেখানেও কেউ যাচ্ছে না বলেও জানা গেছে।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, অনেক অসাধু ব্যবসায়ী গভীর রাতে ভিন্ন জেলা থেকে ফ্রিজজাত মাংস এনে তা তাজা বলে বিক্রি করছেন। এমনকি চোরাই গরু জবাইয়ের ঘটনাও অস্বীকার করা যাচ্ছে না। এতে একদিকে যেমন ভোক্তারা প্রতারিত হচ্ছেন, অন্যদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বহুগুণে বাড়ছে।
পরিবেশগত দিক থেকেও বিষয়টি উদ্বেগজনক। খোলা স্থানে পশু জবাইয়ের ফলে রক্ত, বর্জ্য ও দুর্গন্ধ আশপাশের পরিবেশকে দূষিত করছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে এসব বর্জ্য সরাসরি নালা বা খালে গিয়ে পড়ছে, যা পানিদূষণসহ বিভিন্ন পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণ হয়ে উঠছে।
এ বিষয়ে পৌর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার একরামুল কবির নাহিদ বলেন, শহরের অধিকাংশ মাংস বিক্রেতার মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় মেডিকেল সনদ ছাড়াই অনেকেই এই পেশায় যুক্ত আছেন। এতে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণের বিষয়টি জোরদার করা প্রয়োজন।
পৌর স্যানিটারি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলেন, অপরিকল্পিতভাবে পশু জবাই ও বর্জ্য ফেলার কারণে শহরের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নির্ধারিত জবাইখানা ব্যবহার না করে যত্রতত্র জবাই করা হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যসম্মত নয় এবং পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জেলা ইমাম পরিষদের সভাপতি মাওলানা আবু সাঈদ বলেন, ইসলামে পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা, হালাল পদ্ধতি এবং স্বাস্থ্যবিধি মানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই এসব ধর্মীয় নির্দেশনা অনুসরণ করা হচ্ছে না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং সংশ্লিষ্টদের সচেতন হওয়া জরুরি।
জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, আইন অনুযায়ী পশু জবাইয়ের আগে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং নির্দিষ্ট অনুমোদিত স্থানে জবাই নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এসব নিয়ম মানা হচ্ছে না। এতে রোগাক্রান্ত পশুর মাংস বাজারে আসার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক।
তবে ভোক্তাদের দাবী; নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, লাইসেন্স নিশ্চিতকরণ, স্বাস্থ্য সনদ বাধ্যতামূলক করা এবং অবৈধ মাংস বিতান বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ ছাড়া এ সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিবেশ রক্ষা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি বলেও জানান তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
ঠিকানা: ১৩/পি, বীর উত্তম সি.আর.দত্ত রোড, নাসির পয়েন্ট, ১ম তলা, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০
স্বত্ব © নিউজ এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন